অর্থ:
Supervision বা তত্ত্বাবধান হলো একটি উদ্দেশ্যমুখী প্রক্রিয়া, যেখানে একজন অভিজ্ঞ এবং বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি, সমগ্র শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে গঠনমূলক ও বিশেষজ্ঞের দৃষ্টি দিয়ে দেখেন।
একজন তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষণ- শিখন প্রক্রিয়ার ত্রুটি গুলি সংশোধনের মাধ্যমে উন্নত করে তোলেন। তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন যাতে শ্রেণীর পরিবেশ আরো বেশি শিক্ষণ শিখন উপযোগী হতে পারে । এই প্রক্রিয়ার মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর পেশাগত এবং জ্ঞানের বিকাশ ঘটে।
উদাহরণ : একজন কোচ যেমন শুধুমাত্র খেলোয়াড়ের ভুল ধরেন না, বরং তাকে অনুশীলন করিয়ে, কৌশল শিখিয়ে, তার দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করেন, তত্ত্বাবধান ও ঠিক একই।
Nature of supervision:
1) উদ্দেশ্যমুখী প্রক্রিয়া
তত্ত্বাবধান কখনো উদ্দেশ্যহীন হয় না, এর একটি উদ্দেশ্য থাকে যেমন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষণ শিখন প্রক্রিয়ার লক্ষ্য পূরণ করা
2) ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্ব
তত্ত্বাবধান একটি ধারাবাহিক ও চলমান প্রক্রিয়া যা দীর্ঘ সময় ব্যাপী ।কারণ শিক্ষণ শিখন প্রক্রিয়ার মানোন্নয়ন একটি সময় সাপেক্ষ কাজ।
3) সহযোগিতামূলক ও গণতান্ত্রিক
তত্ত্বাবধায়ক ও শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় থাকে ।এখানে শুধু একতরফা নিরদেশ দেওয়া হয় না বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে সহায়তা করা হয়।
4) বিকাশমূলক দৃষ্টিভঙ্গি
তত্ত্বাবধানের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষণ শিখন প্রক্রিয়ার উন্নতি সাধন করা।এটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনাবলির বিকাশের দিকে মনোনিবেশ করে।
5) গঠনমূলক ও সৃজনশীল
শুধু ভুল চিহ্নিত করা নয় বরং তার সংশোধনের জন্য সৃজনশীল ও কার্যকরী উপায় বের করতে সহায়তা করে। এখানে নতুন পাঠদান প্রক্রিয়ায় ও কৌশল উদ্ভাবন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
6) মানবিক ও সহানুভূতিশীল
তত্ত্বাবধান প্রক্রিয়া যেহেতু মানুষ নিয়ে কাজ করে তাই এটি মানবিক প্রকৃতির।এখানে শিক্ষককে শুধু কর্মী হিসেবে দেখা হয় না বরং তাদের আবেগ, সমস্যা, প্রভৃতিকে সহানুভূতির সাথে দেখা হয়।
উপসংহার :
তত্ত্বাবধান (Supervision) হলো আধুনিক শিক্ষাগত ব্যবস্থাপনার একটি অপরিহার্য, গতিশীল এবং মানবিক প্রক্রিয়া। এর মূল উদ্দেশ্য কেবল ত্রুটি বা ভুল খুঁজে বের করা নয়, বরং শিক্ষক ও কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা। যখন ইন্সপেকশন নিয়ম যাচাই করে, তখন তত্ত্বাবধান উন্নয়নের মাধ্যমে সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করে। কার্যকর তত্ত্বাবধানের মাধ্যমেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয় এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এটিই একটি শিক্ষাব্যবস্থাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল চালিকাশক্তি।